বাবা মা এর বিচার

অনেক সন্তানেরাই বাবা-মায়ের ভুলগুলো নিজেরা আলোচনা করে, অন্যদের বলে বেড়ায়। অথচ তারা তাদের দিক থেকে সঠিক ছিল। অনেক বাবা-মা সন্তানকে ভাল খাওয়াতে পড়াতে গিয়ে বাড়ি গাড়ী করে নাই। এটাকেও ভুল বলে, এমনকি এ জন্য তাদের তাচ্ছিল্যও করে। অনেক বৃদ্ধ বাবা-মাকে নির্যাতিত হতেও দেখেছি। সন্তানেরা বাবার হয়ে মাকে অথবা মায়ের হয়ে বাবাকে যখন ভৎসনা করে তখন আরো বাজে পরিস্থিতিতে পরিনত হয়।


টাকা পয়সা গুরুত্বপূর্ণ না এটা এই সমাজের সন্তানদের বুঝানোর মতো বই বা বাস্তব আদর্শ বা উদাহরণ খুব কমই পাবেন। টাকাকে নিরাপত্তার প্রতিক হিসেবে দেখা হয়। সমাজে বা স্কুলে বা কোথাও বেড়াতে গেলে যখন টাকার কারনে বুলিং এর স্বীকার হতে হয়, শিশু মন তখন বুঝে ফেলে যে টাকা শিক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্বপুর্ণ। শিক্ষার উদ্দেশ্যই টাকা উপার্যন। আরেকটু বড় হলে সে বাবা-মাকেই জাজ করা শুরু করে।

১২ বছর বয়সে যে বাবা মা তার সন্তানকে আমরা বা চানাচুর বেচতে পাঠিয়ে দিয়েছে সে বাবা-মা ই সঠিক কাজ করেছে। আমি সম্ভবতঃ নিজের সন্তানকে অল্প বয়সেই উপার্যন করা শিখাবো। এটা আমার চেয়ে তার নিজের জন্যই বেশি প্রয়োজনীয়। সেটা ভিন্ন আলাপ।

বাবা মা কে বোকা মনে করা। তাদেরকে নিজেদের উন্নতির প্রতিবন্ধক ভাবা ছেলে মেয়ে এই যুগে অনেক বেশি পাবেন। তাদের জাজ করা এবং নিজের পদ্ধতি প্রকাশ করা একটা কমন ব্যাপার। এ বিষয়ে কয়েকটা থিংকিং আলোচানা করবো ইনশাল্লাহ !

বাবা মায়ের জীবন তো আপনি যাপন করেন নাই। সেই সমাজ যে দেখে নাই সেই সমাজের বিষয়ে নানান উপদেশ দেয় আজকের ছেলে মেয়ে।

বাবা মাকে নানান ভাবে জাজ করে ছেলে মেয়ে-

১. সম্পদ জমানোর সুযোগ থাকলেও খরচ করে ফেলছিল। জায়গা জমি কিনে নাই-এটা বাবা মা’র বড় ভুল। অথচ বাবা মা এই সন্তানকেই ভাল খাওয়ানো ও পড়ানোর জন্য খরচ করতে গিয়ে সম্পদ করতে পারেন নাই।

২. আমাকে মাদ্রাসায় না পড়াইয়া জেনারেলে পড়ালে ভালো হতো – এমনও বলে কোন হুজুর।

৩. কাউকে ধার দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বাবা মা ও সন্তানের ভৎসনা পায়।

৪. বাবা বা মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে বা ডিভোর্সে সন্তানের বড় ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু সে তার জীবনের শিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন তা সন্তান পর্যাপ্ত বড় না হলে বুঝবে না। অনেক সময় সন্তানও রাগ করে বাবা-মায়ের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলে। বাবা’র কাছে বড় হলে মায়ের ও মায়ের কাছে বড় হলে বাবার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলে। সন্তানের উচিৎ নিরেপক্ষ থাকার চেষ্টা করা। বাবা সম্পর্কে মায়ের বা মায়ের সম্পর্কে বাবার অভিযোগ নিয়ে সন্তানকে এক মুখি হয়ে কাউকে কষ্ট দেওয়া সন্তানের কাজ না। বরং অনেক বেশি বিচক্ষণতার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা উচিৎ।

আরো লেখাঃ

শিশুর হীনমন্যতা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *