দরিদ্রের হীনমন্যতা

নিজের দরিদ্রতাকে লুকানোর চেস্টা পরিবার থেকে শিখেছি। বাসায় কোন একজন মেহমান আসবে এমন খবর হলে আপুরা বিছানার চাদর ও বালিশের কভারগুলো ধুয়ে দিতো। আর ঘর যতটা সম্ভব পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হতো। যে জিনিসগুলো দেখতে খারাপ তা পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখা হতো।

যদি হঠাৎ করে না জানিয়ে কোন ধনী মেহমান চলে আসতো তখন আমরা আমরা আমাদের দরিদ্রতার জন্য এবং অগোছালো পরিবেশের জন্য লজ্জিত হতাম। আমাদের চেয়ে ধনী বন্ধুদের বাসায় গেলে অবশ্য তাদের মধ্য তেমন লজ্জিত ভাব লক্ষ করতাম না।

এই যে দরিদ্রতার লজ্জা! এটা বাংলাদেশের বড়দের একটা রোগের মত হয়ে গেছে। আর দরিদ্রতা লুকিয়ে নিজেকে অপেক্ষাকৃত ধনী হিসেবে প্রকাশ করা ধীরে ধীরে ছোটদের মাঝে প্রবেশ করছে।

এটা যে ক্ষতিকর তা বুঝতে পারবেন-

  • যখন আত্নিয়দের কোন একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে গেলেন। নতুন আত্নিয়দের সবার সাথে সবার পরিচয় করার পর্ব। আপনি দরিদ্র বা আপনার পোষাক ভাল না এজন্য আপনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো না।
  • অনেক সময় অপরিচ্ছন্ন বাবা বা মাকেও পরিচয় দিতে সন্তান লজ্জা পায়। কৃষক, ফ্যাক্টরী লেবার, হকার, ছোট ব্যবসায়ী,রিকসা চালক তার ছেলে-মেয়েকে যখন ধনীদের স্কুলে পড়ানে হয়, স্কুলের অনুষ্ঠানে অবিভাবক হিসেবে তারা বাবা মাকে পরিচয় করিয়ে দিতে লজ্জা পায়।

এজন্য অবশ্য শিশু-কিশোরদের শিখাতে হবে-নিজেদেরও শিখতে হবে-

  • দরিদ্রতা লজ্জার কিছু না।
  • লেবারি বা ছোট কাজ লজ্জার কিছু না।

হিনমন্যতার জন্ম রিয়া থেকে। ইসলামের দৃষ্টিতে রিয়া হলো দেখানোর জন্য ইবাদত। আমি এই শব্দটিকে দেখানোর জন্য যে কোন কাজকেও মিন করি। দেখানোর জন্য কোন কাজ করে থাকলে অসামঞ্জস্যতা আসবেই।

কেউ যদি দেখানোর জন্য (তার সামর্থের সাথে যা মানায় না এমন) ভাল পোষাক ও দামি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকে তাহলে হয়তো তার অন্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কেনা হবে না।

আপনি যদি  দেখানো কাজে আক্রান্ত লোকের  সাথে পরিচয় হন, তাহলে তারা আপনার কাছে অনেক কিছুই লুকাবে। কি কি লুকাতে পারে? আপনি তাদের বাড়িতে যেতে চাইল সাথে নিবে না। সে জানে তার বাহ্যিক চলাফেরার কারনে তার সাথে তার বাড়ির পরিবেশ দেখে আপনি অবাক হবেন। সে হীনমন্যতায় ভোগে।

অবশ্য অনেকে একটু সুন্দরভাবে চলাফেরা করতে পারে বা নিজের ব্যবহার্য দামী কিছু জিনিস ব্যবহার করতে পারে- যা কিন্তু দেখানোর জন্য না। তার সখের কারনে। তার দরিদ্রতা কিন্তু তাকে হীনমন্য করে তুলবে না।

3 Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *