দরিদ্র পরিবার। শহরে ছোট চাকরী বা ব্যবসা করেন। ভাড়া থাকেন। শহর থেকে দূরে জমি আছে অথবা গ্রামে জমি আছে। ভাল মানের বাসা নাই।
তাদের কি করা উচিৎ?
প্রথমেই তাদের বাড়ি বানানো উচিৎ। যে কোন সময় ব্যবসা বা চাকরী হারালে ভাড়া বাসায় আর সারভাইব করা যাবে না। তখন আপনাকে সঞ্চয় ভেঙ্গে বাড়িভাড়া দিতে হতে পারে। সন্তানরা শহরের পরিবেশ ছেড়ে গ্রামের খারাপ পরিবেশে যেতে চাইবে না।
আমি স্টেপ বাই স্টেপ প্লান দেই-
১. যে বাসায় ভাড়া থাকেন তার চেয়ে একটু কম দামের বাসায় শিফট হোন। ভাল কাঠের ফার্নিচার না কিনে কম দামী কেবিনট কিনে আপাততঃ চলুন।
২. যে টাকা বাসা ভাড়া বাচে তা দিয়ে ইটা এক বছর ইটা কিনুন। পরের এক দুই বছর জমিয়ে ছাদ বা টিন শেড করুন। হিসাব করে দেখুন দশ বা বিশ বছরে কত টাকা ঘর ভাড়া দিয়েছেন বা দিতে হবে।
৩. মাঝে মাঝে বাড়ির জিনিস কিনুন। এতে আপনি এবং পরিবারের লোকজন অন্যসব জিনিস কিনতে চাইবে না। কিনতে চাওয়া এবং কিনে আনন্দ পাওয়া মানুষের সাইকোলজিক্যাল নীড। ইটা গেথে, ছাদ দিয়ে ফেলুন।
৪. শহরের মানের বাথরুম এবং কিচেন বানান। ঘর একটু নিন্ম মানের হলেও বাথরুম একই মানের দরকার। এরপরের বছর এক মাসে কিচেন, আরেক মাসে কমোড, আরেক মাসে বেসিন এভাবে ছোট ছোট জিনিস কিনতে থাকুন। শেষে আপনি ট্যাপ এবং বাথরুমের ফিটিংসগুলা চয়েজ করে কিনতে থাকেন। প্রতিটা কেনায় আপনি আনন্দ পাবেন। আপনি হয়তো এই টাকা দিয়ে দামি জামা, জুতা অন্য কিছু কিনতেন।
( মনে মনে ভাববেন, আপনার বাড়ি নাই- রাস্তায় থাকেন। এখন আপনাকে বাড়ি বানাতেই হবে। ভাড়া যদি না পেতেন- বাড়িওয়ালারা যদি বাড়ি না বানাতো! আমি এমনই ভাবি। আমি এভাবেই বাড়ির জিনিসগুলা কিনে জমাইছি।)
৫. গ্রামে বা শহরের দূরে আপনার একটা সুন্দর বাড়ি হয়ে গেছে।
৬. এখন বেটার শহরের ভাড়া বাড়িতে শিফট হতে পারেন। ফার্নিচার কিনতে পারেন। এর আগে না।
কভিড ১৯ এ অনেক মানুষ চাকরী হারায়, ব্যবসা হারায়- শহর থেকে গ্রামে শিফট হতে পারে নাই। ঘর ভাড়া দিয়া ফতুর হইছে। এমন যে কোন সময়ের জন্য আপনাকে নিরাপত্তা দিবে। কিছুটা ক্রিচ্ছতায় চলতে সাহায্য করবে।