চিঠির সময়

আমি একসময় চিঠি লেখতাম।
মা-কে সবচেয়ে বেশি লেখা হইছিল।
আরো একজনকে সম্ভবতঃ চারটা চিঠি লিখছিলাম। সেটা কিন্তু বলা যাবে না।
চিঠিতে অনেক সময় তারিখ লেখা থাকতো। অনেক সময় জমানো হতো।
.
অনেকের চিঠিও লিখে দিয়েছিলাম। যারা লিখতে পারে না বা গুছিয়ে লিখতে পারে না তাদের জন্য।
.
প্রেম করা কঠিন ছিল তখন। কাছাকাছি থাকা প্রেমিক-প্রেমিকা চিঠি আদান প্রদানের মাধ্যম হিসেবে বন্ধু বা ছোট ভাই বোনদেরকে ব্যবহার করতো। এমন অনেক হয়েছে- বন্ধুর চিঠি আদান প্রদান করতে গিয়ে নিজেই প্রেমে পড়ে গিয়েছে।
অনেকে নির্দিষ্ট জায়গাকে চিঠির জায়গা বানিয়ে সেখানে রাখতো। প্রেমিকা নির্দিষ্ট সময় পরে সেখান থেকে চিঠি নিয়ে যেতো। যেমন- কো ন ইটা বা পাথরের নিচে।
দেখা করার সময় ও স্থান লেখা থাকতো। ওরা দেখা করতো দূর থেকে। কথা হতো না। সহজ ছিল না। তবে সেই সময়ের প্রেমে কথা কম হওয়াতে প্রেম বেশি শক্ত হতো। চিঠিতে ঝগড়া  করা যায় না -তেমন।
 
তখন স্টেশনারী দোকানে চিঠির প্যাড পওয়া যেতো। সাধারন নোটবুক কিন্তু জলছাপে ফুল বা লাভ আকৃতির ডিজাইন সহ।
চিঠির প্রথমে সবচেয়ে বেশি লেখা হতো বিভিন্ন বাক্য যেমন-
প্রিয় অমুক, ” পত্রের প্রথমে তোমাকে জানাচ্ছি- একগুচ্ছ রজনীগন্ধার শুভেচ্ছা। পর সংবাদ-” চিঠির শেষে লিখতাম-“ইতি তোমার প্রিয়”
.
বিদেশ থেকে আমাদের চিঠিআসতো। সেই চিঠির মধ্য অনেকসময় ছবি দেওয়া হতো। চিঠির খাম ও কাগজে সুন্দর ঘ্রাণ থাকতো। আমি ঘ্রাণ নিতাম আর ভাবতাম আলাদা সেন্ট দিয়েছে নাকি ঐ দেশের পরিবেশটাই ঘ্রাণওয়ালা।
.
আমাদের একটা ট্যাপ রেকড্রার ছিল। ফিতার ক্যাসেট ৩৫ টাকা দিয়ে কিনে তা রেকর্ড করতাম। রেকর্ড করে ফিতাগুলো কাগজে পেচাতাম। তারপর কস্টেপ দিয়ে পেচিয়ে চিঠির ভিতর ঢুকিয়ে পাঠিয়ে দিতাম। মা আমাদের গলার আওয়াজ শুনতে চায়- আমরাও মার কন্ঠস্বর শুনতে চাই। এভাবে আমরা কন্ঠস্বর সুনে তৃপ্তি পেতাম।
.
খামের ভিতরে চেক ভরে পাঠানো হতো। সেই চিঠিগুলো অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য “রেজিস্ট্রি” করা হতো। রেজিস্ট্রি চিঠি পাঠাতে বেশি টাকা লাগতো।
আমাদের এলাকায় একটাই পাঁচতলা ভবন ছিল। তাদের টেলিফোন ছিল। আগের থেকে বলা থাকতো এই সময় টেলিফোন আসবে। তখন সরাসরি কথা হতো।
.
এলাকার অনেক ছেলেদের আত্নিয় বিদেশ থাকতো। এক এক জন এক এক দেশে। তাদের কাছ থেকে আমি স্ট্যাম্প সংগ্রহ করতাম। অনেকেই এটা করতাম। আমরা স্ট্যাম্প পাল্টাপাল্টি করতাম। আমার কাছে সম্ভবত চল্লিশটা দেশের বিভিন্ন সংখ্যক স্ট্যাম্প ছিল। চিঠি আসার সাথে সাথেই আমি স্ট্যাম্পটি কেমন- আগের ডিজাইনের নাকি নতুন ডিজাইন সেটা খেয়াল করতাম। খামটা পানিতে চুবিয়ে আঠা নরম করে স্ট্যাম্প সংগ্রহ করতাম।
.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *