গ্রাম ও শহর। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া

১. গ্রামে বসবাসের একটা দারুন সুবিধা হলো সবাই কেমন যেন মনে রাখে।

কয়েকদিন বাজার করলে দোকানদার চিনে রাখে। এক রেস্টুরেন্টে কয়েক সপ্তাহ বার বার গিয়েছিলাম। এরপর গ্যাপ পরে গেছে। আবার যাওয়ায় আমার খোজ খবর নিলো, স্টাফদের চোখ বলছে-অনেক দিন আসেন না।

অথচ, ঢাকায়! প্রতিদিন কোন রেস্টুরেন্টে খেলেও মনে রাখে না। আমার কি পছন্দ প্রতিদিন বলতে হয়।

২. ঢাকায় যখন ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলাম, তখন সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে শুধু বাড়িয়ালারা দাওয়াত পেতো।ঢাকায় এখন একটুকরা জায়গা হওয়ায়, প্রচুর দাওয়াত আসে। আমি মনে মনে হাসি। দূরে গ্রামে চাকরী করি, তবুও মসজিদ কমিটির লোক, এলাকার মান্যগণ্য অনেকেই চেনে।

কোন একটা এলাকায় ২০ বছর থাকা স্বত্বেও, মারা গেলে এলাকার কবরে কবরস্থ করা যায় নাই আমার এক আত্নিয়ের। সে ভুল করেছিল, জায়গা বা ফ্লাট কিনে নাই।

একদিন গরুর হাটওয়ালার ছোট রাস্তা বাস দিয়ে বন্ধ করে দিলো। আমি রিকসায়, সাথে গাজীপুর থেকে নেওয়া কয়েকটা কাঁঠাল। রাস্তা ছাড়বে না। অনেক সময় তর্ক করলাম। যখন বললাম এলাকার লোক আমি, রাস্তা না ছাড়লে তোমার সমস্যা হবে-আমার বাড়ির রাস্তা দিয়া তোমরা ধান্দা করতাছো- ইত্যাদি.. তখন রাস্তা ছেড়ে দিলো। (আসলে এই এলাকায় জন্মালেও বাড়ি করা হইছে অন্য এলাকায়।)

বোঝেন।দরিদ্র ও ধনীর এই যে বৈসম্য, এজন্যই মানুষ ধনী হতে এত মরিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *