টিউশনি

অনেক বছর হয়ে গেল টিউশনি করি না! কি আশ্চর্য!
টিউশনির দিনগুলো ভয়নক রকমের স্বাধীনতা ছিল। টিউশনির দিনগুলো কত তরুন ছিলাম, আমি!
ইন্টারে পড়ার সময় বন্ধুরা কিছু একটা করতে চাইতো। কি করবে কেউ জানে না। কিছু একটা নিয়ে এগোতে হবে। কয়েকজন নিজেদের খরচগুলোকে একটু বড় করার জন্য টিউশনি করতাম। একটা-দুইটা টিউশনি। দূর থেকে এসে যারা পড়তো, তারা একটু বেশি টিউশনি করতো।
পড়ালেখার চাপ হলে হুট করে টিউশনি ছেড়ে দিতাম। অকারনেও টিউশনি ছাড়তাম। আমাদের টিউশনিও অকারনে চলে যেতো। অনেক সময় টিউশনি পাল্টাতাম।
– দোস্ত! ঐ টিউশনিটা আমি করুম না। তুই করবি?
– কয়টায় পড়াইতে হয়?
– সন্ধা থেকে। বিকালে আরেকটা স্যার আছে, শুধু ইংলিশ পড়ায়।
-সন্ধায় পারুম না, এই সময় রাজুর (আরেক বন্ধু) ভাগ্ণিরে পড়াই। আলাপ কইরা দেখিস ভোরে পড়াইলে চলবো কিনা?
-ঠিক আছে।
এইভাবে আমরা স্বাধীনভাবে পার্টটাইম শিক্ষকতা করতাম। কারো টিউশনি চলে গেলে আরেকজন হেল্প করতে এগিয়ে আসতো।
– দোস্ত আমার টিউশনিটা চলে গেছে। আরে পিচ্চি বদের হাড্ডি একটা। ম্যানেজ করতে পারি নাই। দেখিস তো একটা টিউশনি।
– আরে বেপার না পাইয়া যাবি। আচ্ছা! বাপ্পিরে বলে রাখবো নে। ওর ভাই তো স্কুলের টিচার, টিউশনির ব্যবস্থা করতে পারবো।
অনেক অনেক স্বাধীন জীবন ছিল আমাদের। যত ফিলসফি আছে সব শেয়ার করার মতো জায়গা হলো- প্রাইভেট ছাত্র-ছাত্রী। নাইন-টেনের স্টুডেন্ট বেশি পড়ানোর কারনে গল্প আড্ডার অনেক অংশই হতো ওদের সাথে।
এক সময় টিউশনির উপর খেই হারালো অনেকে।
বন্ধুরা কেউ কেউ সমিতি করলো, কেউ পড়ার পাশাপাসি দোকান করলো, কোচিং সেন্টার করলো। কেউ বা ইন্টারে থাকতেই কাউরে ভালবেসে বিয়ে করলো। বেশিভাগই টিকে নাই।
সেই টিউশনির দিন। আজো মনে পড়ে। কি স্বাধীন, কতো উম্মুক্ত, উদ্দাম দিন !
তারিখঃ ২ জুন ২০১৬

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *