ভালবাসার উচ্চাভিলাস ও সেক্স

এক.

ভালবাসাকে উপরে তুলতে গিয়ে মানুষ সেক্স করাকে ভালবাসার অংশ মনে করে না-এমন ভাব প্রকাশ করে। এই ভাব আমি বহুবার প্রকাশ করতে সুনেছি, নাটক ও সিনেমায়। আর আমাদের সাহিত্যে।

ভালবাসাকে উচ্চে তুলতে তাদের এই প্রয়াস হয়তো সমাজের চোখকে ঠিক করার জন্য ঔষধ দিতে চেয়েছিল, হয়তো তারা নিজেরাই কোন মেসেজ দিতে চেয়েছিল, কিন্তু এটা মিথ্যা।

মাহবুব হাসানের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও বেশ কিছু মন্তব্যে বিষয়টা আমার মনে এলো।

Tanvir Rahman বলেছেন, সেক্স হচ্ছে বৈধ বিয়ের জন্য এবং সেটা টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য্য অংশ । এটা ছাড়া কেবল সেই সব বিয়ে ভালবাসাই টিকে থাকে যারা পরকিয়া করে অথবা ডিকলেস পুরুষের যখন বিপুল পরিমান অর্থ থাকে । হ্যা এটা সত্য যে একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর সেক্স ব্যাপারটা আর ম্যাটার করে না । কিন্তু সেই বয়সে আসতে, সেই বয়স পর্যন্ত সম্পর্ক টিকে থাকতে সেক্সের ব্যাপারটা থাকতেই হবে । এবং এটা স্বাভাবিক । জৈবিক চাহিদা প্রত্যেক মানুষের কাছে সত্য এবং চিরন্তন ।

দুই.

এই মিথ্যার আরেকরকম প্রকাশ হলো সৌন্দর্যকে স্বীকার না করা, অসুন্দরও ভাল এটা জানানো। সুন্দরীরা খারাপ এটা বলা। এটা করা হয়েছে হয়তো বর্ণবাদকে বিদায় করতে-আসলে এটাও আরেকটা বর্ণবাদ। সৌন্দর্যের মূল্য রয়েছে-তবে অসুন্দরও সুন্দর হতে পারে। যৌবনকালটা নিজেই সুন্দর। যৌবন হারানো কোন নারীকে বিয়ে করতে যদি সৌন্দর্যের দোহাই দেওয়া হয়-তাহলে বেচারার কিই বা করার থাকে।

সুন্দর নারীকে কোন ধনী অসুন্দর ব্যক্তি বিয়ে করেছে- দুঃখ পেয়েছেন খুব? আপনাকে বিয়ে করে নাই? – দুঃখ করবেন না, সৌন্দর্য সরাসরি আল্লাহ প্রদত্ত। টাকা কেউ উত্তরাধিকার সূত্রে পায়, কেউ পরিশ্রমে পায়। লোকটা যদি উত্তরাধিকার সূত্রে টাকা পেয়ে থাকে তাহলে তো তারা একই লেভেলের। তাদের বিয়ে যুক্তিযুক্ত। আর যদি লোকটি কষ্ট করে টাকা উপার্যন করে থাকে তাহলে তো সে ঐ নারীর চেয়ে বেশি কষ্ট করে উপার্যন করেছে-এবং বিয়ে করতে পেরেছে। বখাটে ছেলে প্রেম করে ভাগিয়ে নিয়ে সুন্দরীকে বিয়ে করেছে- আপনি তো দিব্যি পড়ালেখা করলেন-সার্টিফিকেট পেলেন-এই সব বাদ দিয়ে সে সুন্দরীল পেছনে ইনভেস্ট করেছে। অনেক অনিশ্চত ভয়কে সামাল দিয়ে উচ্চাকাঙ্খার দাম সে পেয়েছে।

তিন.

ভালবাসা সম্পর্কে আরেকটা প্রচার হলো, লাভ টেস্টিং। সিনেমা ও সাহিত্যে, গল্পে ও কবিতায় নায়ক নায়িকাকে একে অপরের জন্য জীবন দিতে দেখা যায়। একজন চুল কেটে নায়কের জন্য ঘড়ি কিনে আনছে তা আমরা ইতিমধ্যে বইয়ে পড়েছি। সরৎ লিখেছে আরো কঠিন ভালবাসার ও বিরহের গল্প।

এই সব পড়ে পড়ে আমরা শিখেছি- ভালবাসা মানে সব ত্যাগ স্বীকার করে স্বামীকে পূজা করবে স্ত্রী। নায়কের মতো এত সময় যে সে স্ত্রীকে দিতেই পারে নাই। এটা সে ভাবে নাই। স্ত্রী শিখে গেছে স্বামী অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাতেই পারবে না। সে যে নায়িকার মতো সুন্দরীতমা নয়-তা সে ভেবে দেখে নাই। একে অপরেকে ভালবাসার টেস্ট দেয়- নাটকের গিফট দেওয়ার মতো, চুমো দিয়ে অফিসে যাওয়ার মতো ঘটনা তাদের ঘটেই না! কি আফসোস !

সংসারে খুব সহজেই ডিপ্রেশন প্রবেশ করে। ভালবাসার সংঙ্গা মেরে ফেলের অসাধারণ ভালবাসা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাময় সংসার।

ভালবাসা আসলে এমন কোন আহামরি কিছু না, অন্যের ভালবাসায় পুরোপুরি আপনি ডুবে থাকবেন-তাকে ছাড়া আপনার চলবে না-এমনটা নিজেকে ধ্বংস করার সামিল। ভালবাসা যৌবনের স্বাভাবিক আচরণ। আল্লাহ এটা সৃষ্টি করে দিয়েছে যাতে ভিন্ন পরিচয়ের দুইজন অনেক দিন কাছে থাকে, পরিবার গঠন করে এবং তাদের সন্তানদের লালন পালন করে। সেক্স করার উর্ধে এটা যায়, তবে যখন আসলে সেক্স করার চাহিদা তেমন প্রোকট হয় না-শেষ বয়সে। এটার জন্ম সেক্স করার সময় থেকে দির্ঘ্য দিন এক সাথে চলার কারনে।

Love you as you read my content.

১১ সেপ্ট ২০১৯

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *